যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতির মুখে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক ঝেড়ে ফেলে আবারও বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে চীন ও কানাডা। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই দেশেরই বাণিজ্যিক টানাপোড়েন শুরু হওয়ায় বেইজিং ও অটোয়া এখন একে অপরের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে বেইজিং সফরে গেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে বেইজিং পৌঁছান মার্ক কার্নি। পাঁচ দিনের এই সফরে তিনি চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বাণিজ্য, কৃষি এবং জ্বালানি খাত নিয়ে আলোচনা করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের উইলামেট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক লিয়াং ইয়ান এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের ‘সূচনা বিন্দু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগে এই ধরনের সফরের কথা কল্পনাও করা যেত না।’
এদিকে পুরানো তিক্ততা ও বর্তমান তাগিদ: ২০২৪ সাল নাগাদ দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। অটোয়া চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপর ১০০ শতাংশ এবং ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিং কানাডিয়ান ক্যানোলা, শুকরের মাংস এবং সামুদ্রিক খাবারের ওপর শুল্ক বসায়। তবে এক বছর আগে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ওয়াশিংটনের একতরফা শুল্কনীতির কারণে চীন ও কানাডা উভয় দেশই এখন তাদের বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বহুমুখী করতে মরিয়া।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, কার্নি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের সাথে বৈঠক করবেন। কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে নতুন অংশীদারিত্ব তৈরির মাধ্যমে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে বিশ্বব্যাপী যেকোনো ধাক্কা সামলানোর মতো শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক করে তুলছি।’
সাবেক মার্কিন বাণিজ্য আলোচক স্টিফেন ওলসন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই দেশের সম্পর্ক যে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা কানাডা ও চীনের জন্য একটি বুদ্ধিমানের কাজ।’ বিশ্লেষকদের মতে, কৃষি পণ্য, অপরিশোধিত তেল, তামা এবং আকরিক লোহা রপ্তানির ক্ষেত্রে কানাডার জন্য চীন একটি বিশাল বাজার হতে পারে। অন্যদিকে, কানাডা চীনের পর্যটক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় দুয়ার উন্মুক্ত করতে পারে।
উল্লেখ্য যে, চীনা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম ১১ মাসে দুই দেশের মধ্যে ৮২.১৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪.৪৫ শতাংশ কম। তবে এই সফরের মাধ্যমে শুল্ক কমানোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে আগামী মাসগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ আবারও বাড়তে পারে বলে আশা করছেন অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র ঃ এসসিএমপি
