ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের বিচারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে খামেনি প্রশাসন। ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও আটক ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার সে সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে ইরান। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। খবর কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই।
পোস্টে তিনি লিখেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিচার বিভাগের মূল কাজ এখনই শুরু হয়েছে। যার শাস্তি প্রাপ্য তাকে যদি অযৌক্তিকভাবে ছাড় দেওয়া হয়, তবে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি হবে।’
একই দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সাথে বৈঠক করেছেন বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, খুনি ও সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, তারা চাইলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘ইসলামি সহানুভূতি’ পেতে পারেন। এদিকে রবিবার (১৮ নভেম্বর) অল্প সময়ের জন্য সীমিত আকারে ইন্টারনেট সংযোগ চালু হলেও ইরানের অধিকাংশ নাগরিক এখনও ইন্টারনেট সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, তীব্র মুদ্রাস্ফীতির কারণে বর্তমানে ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে তা শুরু হয়েছে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর। সম্প্রতি ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড অবমূল্যায়ন ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া দেশটির গ্রান্ড বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করে, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে ডলার–রিয়াল বিনিময় হার ১ ডলারে ১ লাখ ৪৫ হাজার রিয়ালে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
