আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামীকাল রোববার থেকে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন শুরু হবে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সকল বাহিনী সদস্যরা জেলা ও উপজেলায় পৌঁছে যাবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো সহিংস ঘটনা কঠোর হস্তে দমন করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী স্ব স্ব বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই থেকে সেনাবাহিনী সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেফতার এবং সহিংস ঘটনা রোধে তারা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। নির্বাচনকালীন কেন্দ্রে সহিংস ঘটনা, দখলসহ যে কোনো ধরনের আইনবিরোধী কার্যক্রম কঠোর হস্তে দমন করা হবে। সকল বাহিনীর প্রধানগণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বস্ব বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড ও আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকছে।
ইতিমধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন ক্যাম্প সেনা ও পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শন করেছেন। সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিনি আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিক বান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের দিক-নির্দেশনা দেন তিনি।
এ ছাড়া নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপকূলীয় এলাকা পরিদর্শন করেন। নির্বাচনে দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিক-নির্দেশনা দেন। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক
