উৎসবমুখর পরিবেশ ও নজিরবিহীন শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এদিকে ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ইসির অভ্যন্তরীণ সূত্র মতে, কোনো ব্যত্যয় না ঘটলে আজ শনিবারই গেজেট প্রকাশ হতে পারে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বিএনপি এককভাবেই ২১১টি আসনে জয় পেয়েছে। দলটির মিত্র তিনটি দল তিন আসনে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টিতে ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ছয়টিতে জয়ী হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে। এদিকে জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে ৫৯.৪৪ শতাংশ এবং গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নির্বাচনি ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। পদ্ধতিগতভাবে রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে রেজাল্ট শিট আমাদের কাছে আসার পর আমাদের কাছে থাকা বার্তা শিটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখব। রিটার্নিং অফিসাররা সেসব তথ্য আমাদের কাছে হার্ডকপিতে পাঠাবেন। এসব শেষে তাই আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি রেজাল্টগুলোর প্রেক্ষিতে গেজেটের ব্যবস্থা করব। শেষটা কালকের (আজ শনিবার) মধ্যে পাওয়া গেলে, আমাদের দেরি করার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই।’ তিনি আরো বলেন, গেজেটগুলো একত্রে প্রকাশ করা হবে। আমাদের সেই প্রস্তুতি আছে। সব কিছু হাতে এলে আমরা কাজ শুরু করব।’ তবে কে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, সেটি বলার এক্তিয়ার ইসির নেই।
সরকার গঠন করতে যাওয়া রাজনৈতিক দল বিএনপি এবারের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে দলটি আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। এই তিন বিভাগে দলটির প্রার্থী মনোনয়ন যথাযথ হয়নি বলে নির্বাচনের আগেই বিশ্লেষকেরা মত দিয়েছিলেন। অন্যদিকে এই তিন বিভাগে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা জামায়াত জোটের প্রার্থীরা দেশের বাকি বিভাগগুলোতে পিছিয়ে পড়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত অবস্থান, নারীদের বিষয়ে রক্ষণশীল মনোভাব এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশে সংগঠিন নানা ‘মব’-এর সঙ্গে দলটির সম্পৃক্ততার কারণে নির্বাচনে সামগ্রিকভাবে পরাজিত হয়েছে দলটি। এদিকে এই নির্বাচনে এক সময়কার সরকার গঠন করা দল জাতীয় পার্টি একটি আসনেও জিততে পারেনি। অনেক আসনে জামানত হারিয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরাও। অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী সম্মানজনক ভোট পেলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জিততে পারেননি। গত বৃহস্পতিবার দেশের ২৯৯টি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। দেশের কিছু নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীদের নানা অভিযোগ আর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এ দুটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। শুক্রবার বিকালে ইসি ঐ দুই নির্বাচনের এসব ফলাফল প্রকাশ করে। এ নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি অংশ নিয়েছে। দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বাংলাদেশে এবারই প্রথম বার সংসদ নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারই প্রথম বাংলাদেশে পোস্টাল ভোটও নেওয়া হয়। ইসির ঘোষিত নির্বাচনি ফল অনুযায়ী গণভোটে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ৫৬ জন ভোটার। এর মধ্যে হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন। আর সংস্কার বাস্তবায়নে অসম্মতি জানিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন। একই দিন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হলেও দুটি নির্বাচনে ভোট পড়ার হারে দশমিক ৮২ শতাংশ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার ছিলেন।
সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক
