মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। এখন থেকে বিয়েসহ যেকোনো ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জার ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ কমাতে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা কমিয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়ই সরকারের অগ্রাধিকার এবং সেই লক্ষ্যেই এই জরুরি নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব তাঁর বক্তব্যে জানান যে, জ্বালানি সাশ্রয়ের কৌশল হিসেবে বিয়েবাড়ি বা অন্য কোনো উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে আর কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিস্থিতির পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হয়েছে, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামীতে আরও কিছু কঠোর বা শিথিল সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে পালনের জন্য সকল স্তরের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এই তড়িৎ পদক্ষেপগুলো চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে বলে সরকার আশাবাদী।
সুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক
