আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের কার্যক্রম শুরু করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এদিকে জনবল কাঠামো গঠনের পাশাপাশি আইন ও কিছু বিধি পরিবর্তনের কাজও চলমান। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এনবিআর আলাদা হলেও নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। উভয় বিভাগের সমন্বয় না হলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে না।
এনবিআরকে দু-ভাগ করে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলাদা করার পর, গত ২১ আগস্ট সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুমোদন দেয় উপদেষ্টা পরিষদ। অধ্যাদেশটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে থাকবে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। বিলুপ্ত হবে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদ। ডিসেম্বরেই শুরু হবে দুটি আলাদা বিভাগের কার্যক্রম।
এনবিআরের আয়কর নীতি বিভাগের সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ‘আমাদের যত আইন আছে, সবগুলোতেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কথা বলা আছে। এ আইনগুলোতেও পরিবর্তন আনতে হবে। অনেকগুলো কাজ আছে। সরকার চাইলে ডিসেম্বরের মধ্যে নিশ্চই তা সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন।’
আয়কর বিশ্লেষক স্নেহাশীষ বড়ূয়া বলেন, ‘নীতি বিভাগে যারা চাকরি করবেন, তারা কি আসলে ফুলটাইম ওখানে থাকবেন, নাকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে যারা পদায়ণ হবেন, তারা এখানে কিছুদিন থাকার পর আবার জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে ফিরে যাবেন। এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকা উচিত।’ দুই বিভাগের সফলতা পেতে বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
স্নেহাশীষ বড়ূয়া বলেন, ‘নীতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন বা নীতি এমন হওয়া উচিত যেন তা কার্যকরভাবে প্রয়োগযোগ্য হয়। এ বিষয়ে যেন যোগসূত্র স্থাপন হয়। না হলে, কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া যাবে না, যেই কারণে দুই বিভাগকে আলাদা করা হয়েছে।’
রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলাদা হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
