
রাতভর যৌথবাহিনির সাড়াশি অভিযানে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ১৪২ জন বাংলাদেশী সহ ১৪৩৫ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে আটককৃতদের অধিকাংশই পুসাত বন্দর উতারা এলাকার জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) রোহিঙ্গা কার্ডধারী বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৩০ মে) দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম মালয় মেইলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
মালয়েশিয়ান যৌথবাহিনী জেনারেল অপারেশনস ফোর্স (জিওপি) স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে অভিযান শুরু করে, যা শেষ হয় শুক্রবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৬টায়। এসময় কুয়ালালামপুরের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারের ব্যবসায়িক কেন্দ্রসহ এবং দোকানপাটের প্রবেশপথ ও বাহির হওয়ার পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। যৌথ এই অভিযানে অংশ নেয় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৫৬০ জন কর্মকর্তা ও সদস্য।
বুকিত আমান অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিভাগের (পিজিএ) উপ-পরিচালক দাতুক মোহাম্মদ সুজরিন মোহাম্মদ রোধি বলেন, বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থীদের অবৈধ প্রবেশ রোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী অপরাধীদের শনাক্ত করা। এর মধ্যে রয়েছে জাল শরণার্থী কার্ড ব্যবহার, অবৈধভাবে পরিচালিত ব্যবসা এবং ভাড়া করা বাসস্থানকে ঘিরে নানা অনিয়ম বন্ধ করা। অভিযানে ২২৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বেশ কয়েকটি ভাড়াবাসায় তল্লাশি করা হয়। এতে মোট ১২২২ জন রোহিঙ্গা নাগরিক, ১৪২ জন বাংলাদেশি, ৯ জন ভারতীয়, ৪ জন ইন্দোনেশিয়ান এবং ১ জন নেপালি নাগরিককে আটক করা হয়।
সুজরিন আরও বলেন, ‘যাদের বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র ও সঠিক শরণার্থী কার্ড ছিল, তাদের যাচাই-বাছাই শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি অভিবাসীদের কুয়ালালামপুরের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
