
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের ৬ ঘন্টা পরে ঢাকায় পৌঁছেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও, দুপুর দেড়টার দিকে ফ্লাইটটি (বোয়িং ৭৩৭) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা খান সাদি।
এই উড়োজাহাজটি দিয়েই ঢাকা থেকে ব্যাংকক ফ্লাইট পরিচালনা করার কথা ছিল। কিন্তু শারজায় দেরি হওয়ার কারণে ব্যাংকক ফ্লাইটটিও কিছুটা পিছিয়ে যায়। সাদি বলছেন, শারজায় বিলম্বের কারণ এখনো তারা জানতে পারেননি। তবে এই বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি দিয়েই দুপুর আড়াইটায় ব্যাংকক ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের দুবাই প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শারজাহ থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা প্রায় ৬ ঘন্টা ধরে বিমানের ভিতরেই আটকে ছিলেন। যান্ত্রিক ক্রুটি সমাধান করে দুই দফা ঢাকার উদ্দেশে বিমানটি উড্ডয়নের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। অবশেষে তৃতীয় দফায় বিমানটি উড্ডয়ন করতে সক্ষম হয়। ফ্লাইটে থাকা ঢাকার এক প্রবাসী বলেন, স্থানীয় সময় রাত ১টা ১৫ মিনিটে তাদের মূল ফ্লাইটটি ছিল। তারা বোর্ডিং পাস পেয়ে সময়মতই উড়োজাহাজে ওঠে বসে ছিলেন। প্রথমে বিমানের ফ্লাইটটি এক ঘন্টা বিলম্ব হয়।
ওই যাত্রী জানিয়েছেন, রাত ২টা ২০ মিনিটে উড্ডয়নের উদ্দেশ্যে রানওয়েতে গেলেও উড্ডয়ন না করেই ফিরে আসে বলে ভাষ্য ওই যাত্রীর। তারপর ভোর ৪টায় আবারো উড্ডয়নের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে রানওয়ে থেকে আবারো ফিরে আসে উড়োজাহাজটি। বুধবার সকাল ৭টায় তৃতীয় দফার চেষ্টায় বিমান উড্ডয়ন করতে সক্ষম হয়।
বিমানে থাকা সিলেট প্রবাসী রহিম উদ্দিন বলেন, “বিমানের টিকেট করতে গেলে সিট নেই, টাকা বেশি চাওয়া হয়। কিন্তু ফ্লাইটের ভিতর পুরো বিমান ফাঁকা। বিমানের মধ্যে সব মিলিয়ে ১০০ এর কম যাত্রী হবেন। বিমানের বাজে সার্ভিসের কারণেই এমন দুর্দশা।”
এর আগে গত সোমবার ওড়ার পর কেবিন প্রেসারে ত্রুটির সংকেত পেয়ে আবার ঢাকায় ফিরে আসে বিমানের দাম্মামগামী একটি বোয়িং ৭৭৭- ইআর উড়োজাহাজ। পরে যাত্রীদের অন্য উড়োজাহাজে দাম্মাম পাঠানো হয়।
পরে বিমানের আরেকটি ফ্লাইটে এর চাকা ও যন্ত্রাংশ পাঠানো পর উড়োজাহাজটি মেরামত করা হয়। এরপর ৩০ ঘণ্টা বিলম্বে দেশে ফেলে উড়োজাহাজটি।
গত ২৪ জুলাই দুবাই থেকে চট্টগ্রামে এসে যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে বিমানের আরেকটি বোয়িং ড্রিমলাইনার। উড্ডয়নের কিছু সময় পর পাইলট ল্যান্ডিং গিয়ারের দরজা ঠিকভাবে বন্ধ না হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করলে সেটি আবার চট্টগ্রামে ফিরে যায়।
পরে ত্রুটি মেরামত শেষে দুই ঘণ্টা পর সেটি আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
