ওয়ানডেতে টানা ব্যর্থতার পর অবশেষে ঘরের মাঠে স্বস্তির জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে ৭৪ রানে।
অবশ্য স্বাগতিকরা শুরুতে যেভাবে ধীর গতির ব্যাটিংয়ে লো স্কোরিং টার্গেট দিয়েছিল। তাতে জয়ের সম্ভাবনা বলা চলে সেভাবে ছিল না। নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। বাংলাদেশের প্রথম ডানহাতি স্পিনার হিসেবে ওয়ানডেতে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তার ঘূর্ণিতেই এলোমেলো হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৯ ওভারে গুটিয়ে যায় ১৩৩ রানে। ব্যাট হাতে তার ১৩ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংসেও শুরুতে স্কোর দুইশ ছাড়াতে ভূমিকা রাখে। তাই অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরাও রিশাদ।
২০৮ রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা সম্ভাবনাময় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও আলিক আথানেজ গড়েন ৫১ রানের জুটি। সেই সময়ে ম্যাচের চিত্রটা বাংলাদেশের জন্য তেমন আশাব্যঞ্জক ছিল না। কিন্তু রিশাদ তার প্রথম ওভার বল করতে এলেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ২৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার উইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপ একাই গুঁড়িয়ে দেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭৯ রানে ২ উইকেট থেকে ২৪ ওভারেই অতিথিরা ৯২ হারিয়ে বসে ৫ উইকেট। ৩৯তম ওভারে সিলসকে ফিরিয়ে তুলে নেন নিজের ষষ্ঠ উইকেট। বাংলাদেশের কোনও স্পিনারের ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নেওয়ার নজির এটাই প্রথম।
এর আগে, ম্যাচের ১২তম ওভারে রিশাদই এনে দেন বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য। ওপেনার আথানেজ ৩৬ বলে ২৭ রান করার পর এলবিডাব্লিউ হন রিশাদের বলেই। তাতে ভাঙে ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৭৯ রানেও দ্বিতীয় সাফল্য আসে তার বোলিংয়ে।
অথচ পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশের বোলাররা কোনও উইকেট নিতে পারেননি। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনও ঝামেলা ছাড়াই তুলে ফেলেছিল ৪৫ রান!
রিশাদ ৯ ওভারে ৩৫ রানে নেন ৬ উইকেট। ১৬ রানে দুটি নেন মোস্তাফিজুর রহমান। একটি করে নেন তানভীর ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ওয়ানডের সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৯ ওভারে ১৩৩/১০, লক্ষ্য ২০৮ ( পিয়েরে ৭*; আথানেজ ২৭, কার্টি ৯, কিং ৪৪, রাদারফোর্ড ০, চেজ ৬, মোটি ৩, হোপ ১৫, রোমারিও ১, গ্রিভস ১২, সিলস ৩)
বাংলাদেশ ৪৯.৪ ওভারে ২০৭/১০ (তানভীর ৯*; সাইফ ৩, সৌম্য ৪, শান্ত ৩২, হৃদয় ৫১, মিরাজ ১৭, মাহিদুল ৪৬, নুরুল ৯, রিশাদ ২৬, তাসকিন ০, মোস্তাফিজ ১)
ফল: বাংলাদেশ ৭৪ রানে জয়ী
