
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে প্রথম দিন ৪১টি আবেদন জমা পড়েছে। সোমবার বিকালে আপিল আবেদন গ্রহণের কেন্দ্রীয় বুথ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইন শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মাইনুল ইসলাম বলেন, “প্রথম দিন ৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৪১টি আবেদন মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে এবং একটি আবেদন জমা পড়েছে মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে।”
কমিশনের হিসাব বলছে, মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে ঢাকা অঞ্চলের ১৫ জন, রংপুর অঞ্চলের ৩ জন, রাজশাহী অঞ্চলের ৫ জন, খুলনা অঞ্চলের ৩ জন, বরিশাল অঞ্চলের ১ জন, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১ জন, ফরিদপুর অঞ্চলের ৭ জন, কুমিল্লা অঞ্চলের ৪ জন ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২ জন আবেদন করেছেন। আর কুমিল্লা অঞ্চলের একজন প্রার্থীর মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল জমা পড়েছে।
এদিন আপিল আবেদন করতে নির্বাচন কমিশনে এসেছিলেন ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া তাসনিম জারা।
আপিল আবেদন করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ঢাকা-৯ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। সেটি গ্রহণ হয়নি। তাই আমরা আপিল করছি এবং আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র কিনলেও জমা দিতে না পারা প্রার্থী কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমও এসেছিলেন আপিল করতে। কিন্তু তার আবেদন নেওয়া হয়নি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “৫টা ২ মিনিট হয়ে যাওয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারিনি। এখানে আপিল করার কোনো ব্যবস্থা নাই। যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে, শুধু তারা আপিল করতে পারবেন।
“যেহেতু আমি জমা দিতে পারিনি, তাই কোর্ট থেকে রায় নিয়ে আসতে হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) কোর্টে আপিল করব। কোর্ট সুষ্ঠু তদন্ত করে আমার পক্ষে রায় দেবেন বলে আশা করছি।”
আপত্তি থাকলে বৈধ-অবৈধ দুই ধরনের মনোনয়নপত্রেই আপিল করা যাবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
সোমবার সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় আপিলের বুথ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “আমরা অঞ্চলভিত্তিক আপত্তি দাখিল করার জন্য ব্যবস্থা করেছি। যারা বৈধ ঘোষিত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অথবা যাদের অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, উভয়ের ক্ষেত্রেই আপিল করার সুযোগ আছে, এখানে এই আপিলের ব্যবস্থাটা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চালু থাকবে।
“আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা কমিশনে শুনানির ব্যবস্থা করব। আমাদের অডিটোরিয়ামে শুনানি ব্যবস্থাটা হবে। আপনারাও (গণমাধ্যম) তো আছেন, আমাদের তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করেন। আমরাও আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি।”
ইসির পক্ষ থেকে প্রার্থীদের হলফনামা যাচাই-বাছাই হবে কিনা জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, “এটা তো পরের ব্যাপার। আজ হচ্ছে আপিল নেওয়ার কথা। হলফনামা যেটা দিয়েছেন, সেটার উপরে যদি কারো আপত্তি থাকে, তাহলে তো আপিল করবেন।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ৩ হাজার ৪০৬টি মনোনয়নপত্র তোলা হয়েছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।
যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৮৪২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বাতিল হয় ৭২৩টি মনোনয়নপত্র।
আপিল চলবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি চলবে আপিল শুনানি। আর ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর মিলবে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা।
প্রতীক বরাদ্দের আগে রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে প্রচারণা চালানো যাবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা মেনে প্রচারণার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
“আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনি প্রচারণা সমাপ্ত করতে হবে।”
(KS)
