
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর এবার সেমিকন্ডাক্টর চিপসের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিলেন। এই হুমকির ফলে ভারত, চীন, তাইওয়ান এবং জাপানের মতো প্রযুক্তিনির্ভর দেশগুলোতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউ হ্যাম্পশায়ারে এক নির্বাচনি জনসভায় এই শুল্ক বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন। তার বক্তব্য, ‘আমরা বাইরের দেশ থেকে সস্তা জিনিস আমদানি করে নিজেদের ইন্ডাস্ট্রিকে ধ্বংস করতে দিতে পারি না। আমেরিকার মাটি থেকে চিপ তৈরি হবে। যদি বাইরে থেকে কেউ আনে, তাকে ১০০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।’
এই বক্তব্যের ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে মার্কিন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। ব্লুমবার্গ, রয়টার্স, সিএনবিসি এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ঘোষণার তীব্র প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের উপরেও। কারণ ভারত বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং মার্কিন প্রযুক্তি ও ডিজাইননির্ভরতা এখনো প্রবল। ভারত সরকার ‘ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন’-এর মাধ্যমে আত্মনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে এখনো দেশের অধিকাংশ চিপ আমদানি করতে হয় তাইওয়ান, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে।
ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজার গত তিন বছরে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে যেখানে এই বাজারের আকার ছিল প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ অর্থবছরে তা ছুঁয়েছে ৫০ বিলিয়নের ঘর। আগামী পাঁচ বছরে এই বাজার ১০০ থেকে ১১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান। অথচ এই বাজারের জন্য এখনো ভারতে চিপ ডিজাইন ও প্রোডাকশন পরিকাঠামো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সুতরাং আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ হলে খরচ বাড়বে মোবাইল, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, অটোমোবাইল এবং এমনকি চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও। উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার প্রসঙ্গে ভারতকে ‘শাস্তি’ দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। এবার তার পরপরই আরও বড় শুল্ক চাপে কাঁপছে ভারতীয় বাজার। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ’-এর প্রচার ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু সেই কৌশলে ধরাশায়ী হচ্ছেন ভারত।
