
অবৈধ ভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন দুই বাংলাদেশি। এ সময় তাদের ইতালির নিরাপত্তারক্ষীরা উদ্ধার করে। তবে তাদের ইতালিতে না রেখে পাঠানো হয় আলবেনিয়ায়। সেখান থেকেই তাদের আশ্রয়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও আবেদন বাতিল করা হয়।
তাদের এই আশ্রয় আবেদন বাতিলের বিরুদ্ধে ইতালির আদালতে মামলা করেন দুই বাংলাদেশি। এরপর তাদের মামলাটি পাঠানো হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালতে।
এ মামলার প্রেক্ষিতে ইইউর সর্বোচ্চ আদালত আজ শুক্রবার (১ আগস্ট) রায় দিয়েছেন, ইতালি কোনো অভিবাসন প্রত্যাশীকে আলবেনিয়ার বন্দিশিবিরে পাঠাতে পারবে না। বাংলাদেশিদের মামলার পক্ষে রায় দেওয়ার পর এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
মেলেনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “আবারও, এই বিচার ব্যবস্থা, এবার ইউরোপিয়ান পর্যায়ে, নিজেদের বিচারাধিকার দাবি করছে, যেখানে যা তাদের নেই। এ রায়ের বিরুদ্ধে সবদিক দিয়ে কাজ করব আমরা।”
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ইতালি তাদের ‘নিরাপদ দেশের’ তালিকা আপডেট করে। সেখানে বাংলাদেশ, মিসরসহ আরও কয়েকটি দেশকে যুক্ত করা হয়।
যেহেতু বাংলাদেশকে ইতালি ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে বিবেচনা করে তাই বাংলাদেশি কেউ অবৈধভাবে ইতালিতে গিয়ে আশ্রয় চাইলে বা সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইতালিতে ঢোকার চেষ্টাকালে উদ্ধার হলে তাদের আলবেনিয়ার সেই বন্দিশিবিরে পাঠিয়ে দেয় দেশটি।
ইইউর সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশকে যে ইতালি ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছে সেটিরও নিন্দা জানিয়েছে। আদালত বলেছেন, কোনো দেশ চাইলেই অন্য কোনো দেশকে নিরাপদ’ হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে না। এজন্য বিচারিক প্রক্রিয়া এবং যথেষ্ট প্রমাণ লাগবে।
