যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) এক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ইরান গোপনে একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছে, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া ইরানি সামরিক নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, টিইই-০১বি নামের এই স্যাটেলাইট ২০২৪ সালের শেষের দিকে চীন থেকে মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।
সময়, স্থানাঙ্ক তালিকা, স্যাটেলাইট চিত্র ও কক্ষপথ বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, ইরানি সামরিক কমান্ডাররা পরবর্তী সময়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি করতে এই স্যাটেলাইট কাজে লাগিয়েছিলেন। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ও পরে ওই সব জায়গার ছবি তোলা হয়েছিল।
টিইই–০১বি স্যাটেলাইটটি প্রায় আধা মিটার রেজোল্যুশনে ছবি তুলতে সক্ষম, যা পশ্চিমা বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের সমান। এটি ইরানের নিজস্ব সক্ষমতার তুলনায় অনেক বড় উন্নতি। এর মাধ্যমে খুব সহজেই বিমান, যানবাহন বা অবকাঠামোর পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব।
এর আগে আইআরজিসির সবচেয়ে উন্নত স্যাটেলাইট ছিল ‘নূর-৩’, যা ৫ মিটার রেজোল্যুশনের ছবি দিত। কিন্তু চীনা এই নতুন স্যাটেলাইট তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি নিখুঁত, যা সামরিক ঘাঁটির খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণের জন্য অপরিহার্য।
চীনের প্রতিষ্ঠান ‘আর্থ আই কো’ তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, তারা চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি নামহীন দেশীয় কক্ষপথে একটি স্যাটেলাইট হস্তান্তর করেছে। ইরান ২০২১ সালে এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, এই স্যাটেলাইট কৃষি, সমুদ্র পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আইআরজিসি এই সাটেলাইট–ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলার দিতে রাজি হয়েছিল। একটি বিশেষ নথিতে আইআরজিসির একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খরচপাতির হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে স্যাটেলাইট, উৎক্ষেপণ ও কারিগরি সহায়তার কথা উল্লেখ আছে।
চুক্তি অনুযায়ী, এম্পোস্যাট কোম্পানি আইআরজিসিকে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক দিয়েছে। এর ফলে ইরান বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই স্যাটেলাইট পরিচালনা করতে পারে।
সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসন বলেন, এটি ইরানের জন্য একটি বড় কৌশল। কারণ, ইরানের নিজস্ব গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো ২০২৫ ও ২০২৬ সালে হামলার শিকার হয়েছে। কিন্তু অন্য দেশে অবস্থিত চীনা গ্রাউন্ড স্টেশনে হামলা করা অতটা সহজ নয়।
