
তারা বিষয়টি লিখিত আকারে চাচ্ছে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাকরাইল মোড়ে এস এম এ ফায়েজ এ ঘোষণা দেন। এর আগে বিকেল পৌনে ৪টা থেকে অনশনে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অর্ধশত শিক্ষার্থী। ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বসে আমরা সব সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হব। আমরা একটি পরিবার। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে গত বুধবার চট্টগ্রামে ছিলাম। তাঁর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের করুণ অবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য কাজ করতে বলেছেন।
রইছ উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি দাবি আদায় হয়েছে। বাজেট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তী সব বাজেটে সেই ধারাবাহিকতা যাতে অক্ষুণ্ন থাকে, সেই আশ্বাস পেয়েছি আমরা। অর্থ মন্ত্রণালয়, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিটিংয়ে সরকার আমাদের চার দফা দাবি মেনে নিয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, ‘সামনের বাজেটেই আমাদের দাবির প্রতিফলন দেখব। আমাদের অস্থায়ী আবাসনের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ অগ্রাধিকার প্রকল্পে প্রায়োরিটি বেসিস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বাজেট বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিয়েছে।’
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকে বসেন ইউসিজি চেয়ারম্যান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রেজাউল করিম ও জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইছ উদ্দীন। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিচালন বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রথম দাবি মেনে নেওয়া হয়। আবাসন সংকট নিরসনে অস্থায়ী হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে, কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হবে।’
অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, ‘রাত ৮টায় দাবি মানার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা তাঁদের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।’
অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন মো. রিয়াজুল ইসলাম, মো. সজিবুর রহমান, মো. সোহাগ আহমেদ, মো. মোবাশ্বির, মো. মুস্তাফিজ, আব্দুল্লাহ ফারুক, হাবিব মো. ফারুক, ফারুক হোসেন, যুবরাজ হাসান, মাহফুজুর রহমান, রূপন্তী রত্না, বাবলী আক্তার, নওশীন নাওয়ার জয়াসহ মোট ৫১ জন।
এর আগে কাকরাইল সড়ক অবরোধ করে ৫৫ ঘণ্টা নানা কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বুধবার দুপুর ১২টায় তাঁরা লং মার্চ টু যমুনা নিয়ে কাকরাইলে পুলিশি বাধায় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পরে সেখানেই অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছাড়া পেলেন বোতলকাণ্ডে জড়িত শিক্ষার্থী : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া শাখার উপকমিশনার তালেবুর রহমান জানান, উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমানের মাথায় বোতল নিক্ষেপ করা শিক্ষার্থীকে নিজেদের অফিসে নিয়ে যায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁর অভিভাবকের কাছে তাঁকে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে ওই শিক্ষার্থীকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
