প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে বা কোনো ‘‘নিরাপদ তৃতীয় দেশে’’ ফেরত পাঠাতে নতুন আইন করেছে ইউরোপের দেশ গ্রিস৷ বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়৷ এতে, অনিয়মিতভাবে গ্রিস অবস্থান করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে৷
এ ধরনের অপরাধে দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে৷
গ্রিসের বামপন্থি দলগুলো, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে৷
গ্রিসের অভিবাসন ও আশ্রয় মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত এই আইনটির মাধ্যমে অনিয়মিত অবস্থানকারীদের দ্রুত বহিষ্কার এবং আশ্রয় প্রত্যাখ্যাতদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
অভিবাসন ও আশ্রয়মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস বলেন, ‘‘যাদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং যারা অবৈধভাবে গ্রিসে অবস্থান করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আটক, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’
নতুন আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের যদি স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত না যান তবে তাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হবে৷ মন্ত্রী জানান, ‘‘তৃতীয় দেশের অর্থাৎ ইইউর বাইরের দেশগুলোর যেসব নাগরিককে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তারা দেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত আটক থাকবেন৷’’
বুধবার পাস হওয়া আইনে আরেকটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ আশ্রয়প্রার্থীরা সাত বছর গ্রিসে বসবাসের পরও আর বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি পাবেন না৷ এমনকি যারা ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের পরও অনিয়মিতভাবে গ্রিসে ফিরে আসবেন, তাদের কমপক্ষে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে৷
মন্ত্রী থানোস প্লেভরিস বলেন, ‘‘বার্তাটি স্পষ্ট। আপনি যদি এখানে থাকেন এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষার যোগ্য হন, তাহলে আশ্রয় দেওয়া হবে৷ কিন্তু আপনার আবেদন যদি প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে আপনার দুটি পথ খোলা থাকবে৷ হয় আপনি নিজ দেশে ফেরত যাবেন, না হয় কারাগারে যাবেন৷’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘গ্রিস প্রথম দেশ হিসেবে অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য এমন কঠোর ও নিরুৎসাহমূলক পদক্ষেপ চালু করল।’’
আইনটি পাস হওয়ার পর বামপন্থি সব দলই এর বিরুদ্ধে ভোট দেয়। বিরোধী সমাজতান্ত্রিক দল পাশক এই আইনকে ‘অবৈধ’, ‘অগোছালো’ এবং ‘অকার্যকর’ আখ্যা দিয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি একে ‘বর্ণবাদী’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আইনের কিছু ধারা আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন এমন মানুষদের শাস্তির মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব আশ্রয় আবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা না করে ‘‘নিরাপদ তৃতীয় দেশ’’ নীতির কারণে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন করে কঠোরতা
বুধবার পাস হওয়া আইনটি গ্রিসের অভিবাসন নীতিতে আরও এক ধাপ কঠোরতা আনল। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আশ্রয় আবেদন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিল দেশটি।
সেই সিদ্ধান্তের আওতায় শত শত অভিবাসী, বিশেষ করে লিবিয়া থেকে আগতদের আটক করা হয় এবং নির্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে আগস্টের শেষে গ্রিসের আদালত চারজন সুদানি নাগরিককে বহিষ্কারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। তাদের আশ্রয় আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ক্রিট ও ছোট দ্বীপ গাভদোসে ১০ হাজারেরও বেশি অভিবাসী পৌঁছেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল চার হাজার ৯৩৫ জন।
