
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সবার যৌথ সমৃদ্ধির জন্য একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত মহাসাগর নিশ্চিত করার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে। যেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিমালাকে অবশ্যই প্রধান ভিত্তি হিসেবে থাকতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের (সিএসসি) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সপ্তম বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
খলিলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে এমন মূল্যবোধ ও নীতিমালা অনুসরণ করে, যা সবার যৌথ সমৃদ্ধির জন্য একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত মহাসাগর নিশ্চিত করার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে। যেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মতো বিষয়গুলোকে অবশ্যই প্রধান ভিত্তি হিসেবে থাকতে হবে। তিনি কনক্লেভের পাঁচটি মূল স্তম্ভকে যৌথ নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভিন্ন সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন।
সমুদ্র নিরাপত্তা, জলদস্যুতা ও সংঘটিত সামুদ্রিক অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এসব ক্ষেত্রে আমরা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিকভাবে নিন্দা জানিয়ে আসছে এবং সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তবে দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবির্ভাবের কারণে সাইবার অপরাধ বড় আঞ্চলিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। তাই বাংলাদেশে সাইবার নিরাপত্তা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, আমাদের দেশ ভুল তথ্য এবং গুজবের অবিরাম আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সাইবারস্পেস, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি সুরক্ষিত করার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
খলিলুর রহমান বলেন, উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল জাতীয় প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। সাইবার নিরাপত্তা, ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সম্মিলিত পদক্ষেপগুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে যৌথ স্বার্থ এবং সুবিধাগুলো অনুসরণ করার সময় পারস্পরিক বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধাবোধ জোরদার করার জন্য সিএসসি সদস্যদের আহ্বান জানান তিনি।
খলিলুর রহমান একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা কোনো বহিরাগত বা অভ্যন্তরীণ শক্তিকে আমাদের সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে পারি না। জটিল ও পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিএসসি সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও উন্মুক্ততার ভিত্তিতে অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। সবশেষে খলিলুর রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, কনক্লেভ একটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক আঞ্চলিক বহুপাক্ষিক সংস্থায় পরিণত হবে, যা উন্মুক্ত আঞ্চলিকতার দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হবে।
সিএসসির বৈঠক নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চিহ্নিত স্তম্ভগুলোর অধীনে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। তারা সিএসসির দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্দেশ্যগুলোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সদস্যরা সিএসসিতে পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগদানের জন্য সেশেলসের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
