
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগে আওয়ামীপন্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সব আয়োজন চূড়ান্ত করার খবর ফাঁস হয়েছে। প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে ছয়টি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ দানা বেধেঁছে। অভিযোগ উঠেছে, ১৫ ডিসেম্বর তড়িঘড়ি করে বসতে যাওয়া নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী এবং অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগে স্বজনপ্রীতিরও আভাস পাওয়া গেছে।
একাধিক সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানায়, নিয়োগ প্রক্রিয়াকরণের জন্য ১৫ ডিসেম্বর তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বোর্ড আহ্বান করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের সহযোগী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধীরাই মূল প্রার্থী সেখানে!
প্রার্থীদের প্রোফাইল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অভিযোগকারীরা দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেছেন, প্রভাষক পদের জন্য আবেদন করা ৩৬ জন প্রার্থীর প্রায় সবাই পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তীব্র বিরোধী। এই প্রার্থীরা তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পক্ষপাতমূলক অবস্থানের কারণে সমাজবিজ্ঞানের মতো একটি প্রগতিশীল বিভাগে নিয়োগের জন্য অযোগ্য বলে মনে করছেন তারা। অবিলম্বে এই নিয়োগ বোর্ড স্থগিত ও নতুন করে আবেদন আহ্বান করার দাবি উঠেছে।
দৈনিক শিক্ষাডটকম এর অফিসে আসা লিখিত অভিযোগ আরও বলা হয়, আবেদনকারীদের বেশিরভাগই সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ফ্যাসিবাদের সহযোগী শিক্ষক—এ কে এম জামাল উদ্দিন, সাদেকা হালিম, মশিউর রহমান, জিনাত হুদা, মাহমুদা খাতুন —এর মতো বিতর্কিত ও নিন্দিত এবং শিক্ষক নামধারীদের ‘খুব ঘনিষ্ঠ’ । প্রার্থীদের প্রায় সবাই বিতর্কিত শিক্ষকদের অধীনে থিসিস করেছেন। বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনাও আওয়ামী লীগপন্থী এবং ফ্যাসিস্টদের সাথে ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও এসব আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রোমোট করার অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া উচিত, তখন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগের এই তোড়জোড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও শিক্ষার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
শিক্ষাবিদ এবং ছাত্রসমাজের একাংশ এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং মেধা-ভিত্তিক নিয়োগ বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের পক্ষপাতমূলক নিয়োগ হলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একাডেমিক পরিবেশ এবং গবেষণার স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ছাত্ররা এই নিয়োগ কোন অবস্থাতেই হতে দিবে না বলে জানিয়েছে।
ফ্যাসিস্টের সহযোগীদের নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
ফিরে দেখা: খুন-গুমসহ নানা অপরাধের মামলার আসামী হিসেবে গ্রেফতার হয়ে জেলখানায় থাকা আমির হোসেন আমুর তদবিরে প্রথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে চাকরিবাগানো মশিউর রহমানের নানা অপকর্মের এক চিলতে তুলে ধরা হলো। এছাড়া ফাতেমা রোজিনার বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ।
‘ঢাবি শিক্ষকদের অপরাধ প্রবণতা’ শিরোনামে ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, অর্থ কেলেংকারি, থিসিস জালিয়াতি, প্রকাশনা চুরিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন এক শ্রেণির শিক্ষক। গত পাঁচ বছরে অন্তত ৩৭ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গছে। কিন্তু রাজানৈতিক কারণে বেশিরভাগ শিক্ষকই পার পেয়ে যাচ্ছেন। মতাদর্শিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলে তাকে ‘সাইজ’ করার ঘটনাও রয়েছে অনেক।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গবেষণা জালিয়াতি : গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে ১১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ‘চমকপ্রদ’ হিসেবে ৫টি ঘটনা উল্লেখ করা যায়।
যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান অন্যের গবেষণাকর্ম নকল, কপি পেস্ট করে নিজের নামে চালিয়ে প্রকাশনার সংখ্যা বাড়িয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ রয়েছে। কাটপেস্ট করা প্রকাশনা দেখিয়ে তিনি পদোন্নতি পেয়েছেন। অপর শিক্ষক ফাতেমা রেজিনা পাঞ্জেরী প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত মাধ্যমিক শ্রেণির গাইডকে প্রকাশনা হিসেবে দেখিয়ে পদোন্নতি নিয়েছেন।
এহেন মশিউর ও রেজিনার শাস্তি দাবি ও রেজিনার অধীনে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।
