জাতীয়করণের দাবিতে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করা বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের ওপর জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে হাইকোর্টের সামনে কদম ফোয়ারা এলাকায় তাদের আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। পরে শিক্ষকরা পিছিয়ে আবার প্রেস ক্লাবের সামনে চলে যান।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ এর ব্যানারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েক শ শিক্ষক এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
পরে শিক্ষকরা কাকরাইল মসজিদের সামনে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা যাওয়ার হেয়ার রোডের মুখে অবস্থান নেন। সেখানে তারা পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষক সেখানে অবস্থান করছেন। তারা বলছেন, ‘আমরা বেতন পাই না, সন্তানদের খাওয়াতে পারি না, দয়া করে প্রধান উপদেষ্টা যেন আমাদের জাতীয়করণ করেন। নয়তো আমরা এভাবেই জীবন দিয়ে দেব।’
তাদের দীর্ঘদিনের দাবি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয়করণ বঞ্চিত অনধিক ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দ্রুত জাতীয়করণ করতে হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেন, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার দেশের সব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়েছিল। তখন ৩০ হাজারের বেশি বিদ্যালয় থাকলেও রাজনৈতিক কারণে প্রায় ৫ হাজার বিদ্যালয় বাদ পড়ে। ২০১৬ ও ২০১৮ সালে একাধিক সরকারি চিঠি ইস্যু করা হলেও জাতীয়করণ কার্যকর হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলেও এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
