
সরকারের সঙ্গে প্রকৃত অর্থে কোনও দ্বন্দ্ব বা বিরোধ সৃষ্টি না করে নির্বাচন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য করতে চায় বিএনপি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবিতে এই প্রক্রিয়ায় এগোনোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।
সোমবার (২ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের কয়েকজন নেতাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, পলিসিগতভাবে সরকারের সঙ্গে কোনও দ্বন্দ্বে যেতে চায় না বিএনপি। এমনকি নির্বাচন ইস্যুতে প্রকৃত কোনও বিরোধেও না জড়ানোর পক্ষে দলটি।
তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যেন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন আয়োজনে সচেষ্ট থাকে, সেজন্য দৃশ্যমান চাপ তৈরির পক্ষে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। আর এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সমন্বিতভাবে নির্বাচনি ঐকমত্য করতে চায় বিএনপি।
এ বিষয়ে অবশ্য সেমিনার বা কনভেনশন ধরনের কোনও আয়োজন করতে পারে বিএনপি। আসন্ন ঈদুল আজহার পর রাজধানীতে এই আয়োজন হতে পারে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অবশ্য নানা ধরনের তথ্য দেন। কেউ কেউ জানান, কেবল রাজধানী নয়, সারা দেশেই বিভিন্ন দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে আয়োজন হতে পারে। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে কনভেনশন হতে পারে। মূলত নির্বাচন যেন ডিসেম্বরের মধ্যে আদায় করা যায়, সে বিষয়টি লক্ষ্য করেছে বিএনপি।
যদিও বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে জানায়, আগামী বছরের এপ্রিল নাগাদ নির্বাচনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগ্রহ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় একাধিক প্রভাবশালী পক্ষ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে আন্তরিক। শেষ পর্যন্ত এ দুটো বিষয় মুখোমুখি হবে কিনা, তাও বিএনপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট হতে পারেনি সূত্র।
দলের উচ্চ পর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কোনও দ্বন্দ্ব বা বিরোধে না জড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর একটি ঐকমত্য করে নির্বাচন আদায়ে পক্ষপাতী বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
