
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যখন আলাস্কায় যান, তখন তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গ সামনে এনে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমকে একহাত নিয়েছেন।
খবর আল–জাজিরার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মারিয়া লেখেন, ‘পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যাকে উন্মাদনা বলা যায়, প্রায় পাগলামির কাছাকাছি। টানা তিন বছর তারা রাশিয়ার একঘরে হয়ে পড়া নিয়ে অবিরাম প্রচার চালিয়েছে। অথচ আজ তারা যুক্তরাষ্ট্রে রুশ প্রেসিডেন্টকে লালগালিচা সংবর্ধনা পেতে দেখল।’
দুই নেতার বৈঠক ‘খুবই ইতিবাচক’ হয়েছে : ক্রেমলিন
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ‘খুবই ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুই নেতার ওই বৈঠকের পর প্রতিক্রিয়ায় এমন কথা বলেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
পেসকভ বলেন, আলাস্কায় দুই নেতার বৈঠক ‘খুবই ইতিবাচক’ হয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে পেতে এ আলোচনা উভয় দেশকে ‘আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে’ সহায়তা করবে।
বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ট্রাম্প ও পুতিন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্ন না নেওয়া প্রসঙ্গে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরইএ নভোস্তিকে পেসকভ বলেন, দুই নেতা ‘পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য’ দিয়েছেন। এ কারণে অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তরের প্রয়োজন পড়েনি। খবর বিবিসির।
বৈঠকে একটি বিষয়ে একমত হননি পুতিন, সেটি কী বললেন না ট্রাম্প
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি শিগগিরই হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এতে যুদ্ধবন্দীদের বিনিময়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে একটি বিষয়ে একমতে পৌঁছানো যায়নি। আর সে কারণেই চুক্তি হয়নি। তবে বিষয়টি কী, তা বলেননি ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় স্থানীয় সময় শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব ৫০-৫০। কারণ, অনেক কিছুই ঘটতে পারে। তবে আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট পুতিন সমস্যার সমাধান চান।’
ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আজ আমাকে তাঁরা হাজার হাজার মানুষের একটি তালিকা দিয়েছেন—হাজার হাজার যুদ্ধবন্দী, যাঁরা মুক্তি পাবেন।’
ফক্স নিউজের সঞ্চালক হ্যানিটি এ সময় জানতে চান, এমন কোনো চুক্তির বিষয়ে আজকের বৈঠকে তাঁরা সম্মত হয়েছেন কি না? জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে।’ তাঁর ভাষায়, ‘আসলে তাঁদের এ প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে।’
তবে কে তাঁকে যুদ্ধবন্দীদের তালিকা দিয়েছেন, কিংবা এসব বন্দীরা রাশিয়া নাকি ইউক্রেনের নাগরিক, সেসব বিষয়ে কিছুই বলেননি ট্রাম্প।
চুক্তিতে বাধা কী, বলেননি ট্রাম্প
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চুক্তিতে পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করেছে যেসব বিষয়, সেগুলোর কথা বলতে নাজি হননি।
পুতিনকে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, তিনি চান চুক্তি সম্পন্ন হোক।’ তবে একটি বড় বিষয়ে তাঁরা একমত হতে পারেননি। সেই বিষয়টি কী, তা বিস্তারিত বলেননি ট্রাম্প।
ট্রাম্প জানান, পুতিন এমনও বলেছেন, ইউক্রেনে হামলা চালানোর সময় যদি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকতেন, তাহলে এই যুদ্ধ হতো না। এ ব্যাপারে পুতিন একমত হওয়ায় ট্রাম্প তাঁর প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এই যুদ্ধ কখনো হওয়া উচিত ছিল না। জানেন, অনেক যুদ্ধই হওয়া উচিত ছিল না। ভুল লোকেরা কথা বলছে এবং এ ধরনের বোকামিগুলো ঘটছে।’ তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে রাশিয়ায় হামলা ঠেকাতে না পারার জন্য দোষারোপ করেন।
সঞ্চালক হ্যানিটি জিজ্ঞাসা করেন, এটি কি আজ চূড়ান্ত হওয়া কোনো চুক্তি? এ সময় ট্রাম্প বলেন, এটি এখনো মুলতবি রয়েছে।
তবে ট্রাম্প এ–ও বলেন, তাদের (রাশিয়া) এটা মেনে নিতে হবে। খবর বিবিসির
ফক্স নিউজকে সাক্ষাৎকার দিলেন ট্রাম্প
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের মূল্যায়ন করতে বললে ট্রাম্প জবাব দেন, ‘১০–এ ১০।’ তিনি বলেন, ‘আলোচনায় আমাদের মধ্যে দারুণ মিল ছিল।’ আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এখন ইউরোপের দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করে একটি চূড়ান্ত চুক্তি করার দায়িত্ব জেলেনস্কির (ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট)।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ভবিষ্যতে রাশিয়া ও ইউক্রেন সরাসরি আলোচনায় বসবে। সেই আলোচনায় পুতিন ও জেলেনস্কি—দুজনেই থাকবেন। খবর বিবিসির
পুতিন ও ট্রাম্প উভয়ে আলাস্কা ছাড়ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে আলাস্কা ছাড়ছেন। পুতিন এরই মধ্যে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজে উঠে গেছেন। পুতিনের মিনিট দশেক পর ট্রাম্পও তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজে উঠে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই উড়োজাহাজ দুটি নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আলাস্কার এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে পুতিনকে বহনকারী উড়োজাহাজ অবতরণ করেন। এর কয়েক মিনিট আগে ট্রাম্পকে বহনকারী উড়োজাহাজও সেখানে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে পুতিনকে লালগালিচায় উষ্ণভাবে বরণ করে নেন ট্রাম্প। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের গাড়িতে করে দুই নেতা বৈঠকস্থলে যান। সেখানে তাঁদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের আরও দুজন করে কর্মকর্তা ছিলেন।
রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্প ও পুতিন যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন। তাঁরা বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি বা এ যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।
তবে ট্রাম্প ও পুতিন শিগগির আবার দেখা করতে পারেন, এমন একটি ইঙ্গিতের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ হয়। তাঁদের পরবর্তী বৈঠক হতে পারে মস্কোয়।
