প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবৈধ অভিবাসীদের অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এমন সময়ে বাংলাদেশের বৃহত্তর শ্রমবাজার মালয়েশিয়া থেকে শত শত শ্রমিক ফেরত পাঠাচ্ছে মালয় সরকার। অনেককে আবার দেশের মধ্যে ঢুকতে না দিয়ে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর গাণিতিক পরিমাণ কবে শেষ হয় তা বলা বাহুল্য। এমতাবস্তায় যুক্তরাষ্ট্রের পর নতুনভাবে ফেরতের তালিকায় যুক্ত হলো যুক্তরাজ্যে। নতুন করে কানাডাও যুক্ত হচ্ছে এমনটিই শোনা যাচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ভারত থেকে ২২০০, যদিও ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে দুই হাজার, লিবিয়া থেকে পর্যন্ত প্রায় ছয়শত, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১৮ মালয়েশিয়া থেকে ৭৭০ জন এবং সর্বশেষ যুক্তরাজ্য থেকে শুক্রবার ১৫ জন অভিবাসী ফেরত এসেছে। ফেরত আসার তালিকায় রয়েছে ডেনমার্কও। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সে দেশটিও অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে অবস্থিত ডেনমার্ক দূতাবাস সূত্র।
জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিএমইটি এবং ওয়েজ ওয়ানার্স বোর্ডের তথ্যনুযায়ী, দেশগুলোতে আটক এবং ফেরত এসব অভিবাসী অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ সংখ্যা বেসরকারি সংস্থাগুলোর অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাগুলোর হিসেবে আরও বাড়তে পারে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও কানাডা। শুক্রবার লন্ডন থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ১৮ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে পাঠানোর পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জনকণ্ঠকে জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।
ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার জানিয়েছেন, কানাডায় অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদেরও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে বাংলাদেশিরাও আছেন। তবে কতজন এবং কবে নাগাদ ফেরত পাঠানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ অভিবাসন শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে না, বরং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকেও বাধাগ্রস্ত করছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেছেন ‘আমরা যদি অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে।’
