যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন এক নির্বাহী আদেশে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর জন্য শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের আওতায় নিকেল, স্বর্ণ, রাসায়নিক দ্রব্য এবং ওষুধের উপাদানসহ বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে। সোমবার থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে।
এই নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প স্বাক্ষর করেছেন ২০২৫ সালের সোমবার। এর লক্ষ্য মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে সুবিধা আদায় করা। ট্রাম্প এর আগে তার প্রেসিডেন্ট পদে প্রথম সাত মাসে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের শুল্ক বৃদ্ধি করেছিলেন। নতুন আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘রেসিপ্রোক্যাল’ বা পারস্পরিক চুক্তি করা মিত্র দেশগুলো ৪৫টিরও বেশি পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই শুল্ক ছাড় স্থানীয় সময় রোববার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা ০১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে কার্যকর হবে। শুল্ক ছাড়ের আওতায় এমন পণ্য রয়েছে যা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনযোগ্য নয় বা পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে আছে- কৃষিপণ্য, বিমান ও যন্ত্রাংশ, ফার্মাসিউটিক্যালসের জন্য ব্যবহৃত কিছু নন-পেটেন্টেড উপাদান, গ্রাফাইট, বিভিন্ন ধরনের নিকেল (স্টেইনলেস স্টিল ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ), সাধারণ ওষুধে ব্যবহৃত যৌগ যেমন লিডোকেইন এবং মেডিকেল টেস্টে ব্যবহৃত রিএজেন্ট। এছাড়া স্বর্ণের বিভিন্ন ধরনের আমদানি বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড থেকে আসা বুলিয়নও অন্তর্ভুক্ত। তবে কিছু নির্দিষ্ট প্লাস্টিক ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জরুরি পলিসিলিকন আমদানিতে বিদ্যমান ছাড় বাতিল করা হয়েছে।
আদেশে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, কতটা শুল্ক কমানো হবে তা নির্ভর করবে—বাণিজ্য অংশীদার দেশটির অঙ্গীকারের মাত্রা, মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থের গুরুত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করে, তবে বাণিজ্য প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কাস্টমস আলাদা কোনো প্রেসিডেন্টের আদেশ ছাড়াই ওই দেশের আমদানির ওপর শুল্ক ছাড় দিতে পারবে।
সুত্রঃ রয়টার্স
