
ভূতের কিংবা যে কোনো ধরনের ভয়ের ছবি দেখে কেউ দেয় চিৎকার কেউ আবার রাতে দেখেন দুঃস্বপ্ন। বিজ্ঞানীরা বলছেন এর থেকে বোঝা যায় মানুষটি কতটা অনুভূতি প্রবণ। কীভাবে সে দুনিয়ার সাথে সংযোগ স্থাপন করছে।
সিএনএন ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া’র ‘মিডিয়া সাইকোলজি রিসার্চ সেন্টার’য়ের পরিচালক পামেলা রাটলেজ বলেন, “অনুভূতি প্রবণ মানুষেরা সাধারণত ভৌতিক সিনেমা পছন্দ করেন। কারণ এটা নিরাপদ উত্তেজনা ও রোমাঞ্চ প্রদান করে।”
এক ইমেল বার্তায় স্যান্টা বারবারায় অবস্থিত ‘ফিল্ডিং গ্রাজুয়েট ইউনিভার্সিটি’র ‘মিডিয়া সাইকোলজির’ এই ‘প্রফেসর এমিরিটা’ আরও বলেন, “সহানুভূতি প্রবণ মানুষেরা সাধারণত যে কোনো অনুভূতি সহজেই গ্রহণ করে। ফলে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে মানসিক আঘাত পাওয়ার প্রবণতাও বেশি থাকে।”
আর তারা ভয় বা উদ্বেগের চাইতে চাপের প্রতি বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়।
“এই ধরনের আঘাত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, এমনকি কোনো কোন সময় দুঃস্বপ্ন দেখার কারণ হতে পারে”- একই প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ ইউটাহ’স স্লিপ ওয়েক সেন্টার’য়ের ক্লিনিকাল সহযোগী অধ্যাপক জেনিফার মান্ডট।
তিনি বলেন, “যখন স্বপ্ন দেখি তখন আমাদের মস্তিষ্ক অনুভূতি ও স্মৃতিগুলো প্রক্রিয়াজাত করতে থাকে। যেদিন মস্তিষ্কে অদ্ভূত, ভয়ের ছবি দেখে, ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্ক সেই ছবি প্রক্রিয়াজাত করতে থাকে। যদিও সব সময় এর থেকে দুঃস্বপ্ন তৈরি হয় না, তবে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।”
এটা শুধু সিনেমা থেকেই নয়, যে কোনো ভয়ের ছবি, গল্প বা বই পড়েও হতে পারে। কিংবা কোনো ভৌতিক পরিবেশ বা বাড়ি ঘুরে আসলেও ঘুমে প্রভাব পড়তে পারে।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “বিশেষ করে যাদের কল্পনা শক্তি বেশি বা কোনো কারণে অতীতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন তাদের ঘুমের মধ্যে ভৌতিক সিনেমা, গল্প বা পরিবেশ বেশি প্রভাব ফেলে।”
যে কারণে ভৌতিক ছায়াছবি ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়
“কোনো ভোতিক ছবির দৃশ্য দেখে হাসি আসে, যেমন- ‘দি এক্সরসিস্ট’ ছবির ‘মুখ দিয়ে সুপ ছোড়ার দৃশ্য’- এটা দেখে আমি প্রচণ্ড হেসেছি। অন্যদিকে আলফ্রেড হিচককের ‘সাইকো’ ছবির শাওয়ার দৃশ্য দেখে পরপর তিন রাত ঠিক মতো ঘুমাতে পারিনি, এমনকি রাতে ঘুমের সময় আলো জ্বেলে রাখতাম ছোটবেলায়”- এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ম্যানহাটন ইউনিভার্সিটি’র ‘কমিউনিকেইশন, সাউন্ড অ্যান্ড মিডিয়া আর্টস’ বিভাগের অধ্যাপক মাকেল গ্রাবোস্কি।
তার কথায়, “ভৌতিক ছবি বেশি কাজ করে যদি চমকে ওঠার বিষয় থাকে। যেমন- ‘এলিয়েন’ ছবিটি দেখতে গেলে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি হিসেবে। তারপর চমকে উঠলেন যখন যখন দেখলেন, এলিয়েন বের হয়ে আসছে মানুষের পেটের ভেতর থেকে। যখন এই ধরনের আৎকে ওঠার মতো ছবি দেখতে যাওয়া হয় তখন নিজের মধ্যে বিপদের আশঙ্কা থেকে এক ধরনের সুরক্ষার অনুভূতি কাজ করে।”
“একইভাবে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ও নিরাপদ জায়গায় নিজের সুরক্ষার অনুভূতি নামিয়ে ফেলে দেহ যাতে ঘুমাতে পারে। তবে মস্তিষ্কের কিছু অংশ মনে করায় ওই ভয় পাওয়াটা ছিল মজার আর আনন্দদায়ক। আবার কিছু অংশ একই সাথে উত্তেজিত থাকে ওই ভয়ের অংশ হিসেবে”- ব্যাখ্যা করেন এই অধ্যাপক।
আর এই কারণেই ভৌতিক সিনেমা দেখলে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
(KS)
