
তামিম ইকবালের একটা ভিডিও মোবাইলে মোবাইলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ভিডিওতে দেখা গেছে, ফোনে স্কোর দেখতে দেখতে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ঢুকছেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক। হঠাৎ মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। কেন, সেটিও বলে দেওয়া যাক। তামিম যখন মোবাইল খুললেন, ততক্ষণে বাংলাদেশের ৩৫ রানে পঞ্চম উইকেটও পড়ে গেছে। সেটা দেখেই তাঁর ওই প্রতিক্রিয়া।
আরেকটা ঘটনা। নবম ওভারে পরপর ২ বলে তানজিদ হাসান আর মুশফিকুর রহিমকে আউট করে দিয়েছেন অক্ষর প্যাটেল। এর একটু পর প্রেসবক্সের নিচে গিয়ে দুই দুবাইপ্রবাসী বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কথোপকথন কানে এল। বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে তাঁদের ‘বিশেষজ্ঞ মতামত’ হুবহু তুলে না ধরাই ভালো। শুধু সারমর্মটা বলা যাক। তাঁরা দুজনই একমত যে বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যানদের ক্রিকেট খেলা বাদ দিয়ে অন্য কোনো কাজ খুঁজে নেওয়া উচিত। সম্ভাব্য বিকল্প একটি পেশার কথাও তাঁরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলেন, সংগত কারণে সেটিও উহ্য রাখা হলো।
বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হেরেছে ৬ উইকেটে। তানজিম হাসানকে পুল শটে ছক্কা মেরে ২১ বল বাকি থাকতে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন লোকেশ রাহুল (৪১*)। সেঞ্চুরিতে দলের জয় সহজ করে তোলা শুবমান গিল অপরাজিত ১০১ রানে। তাসকিন আহমেদের বলে রোহিত শর্মার আউটে ৬৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও আরেক ওপেনার ফিরেছেন ম্যাচ শেষ করে। ১৪৪ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ার পর ৮৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গিল-রাহুলের।
তবে এই জুটির পেছনে আছে সংগ্রামের এক গল্প। ব্যক্তিগত ৮৬ রানের সময় পায়ের মাংসপেশিতে টান পড়ায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন হৃদয়। কখনো ব্যথায়, কখনো ভারসাম্য হারিয়ে এরপর পড়েছেন আরও তিনবার, যার দুবারই ৯০ পার হয়ে। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসটাকে হৃদয় তবু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই নিয়ে যান শেষ ওভার পর্যন্ত। ১১৪ বলে সেঞ্চুরি করার পর ১১৮তম বলে হৃদয় ওই ১০০ রানেই আউট হন হর্ষিত রানার করা শেষ ওভারের চতুর্থ বলে। শেষ পর্যন্ত ওই সেঞ্চুরি শুধু একটু মানই বাঁচাতে পেরেছে বাংলাদেশের।
