প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসীদের হামলা-আগুন, লুটপাট এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। তাঁরা বলেছেন, সরকার দেশের ব্যবসা–বাণিজ্য ক্ষতি করতে না চাইলে, সংবাদমাধ্যমের ব্যত্যয় ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না চাইলে, তা প্রমাণ করতে হবে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হবে।
‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক যৌথ প্রতিবাদ সভায় ব্যবসায়ী এ কথাগুলো বলেন। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়া এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করার প্রতিবাদে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ ও মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (নোয়াব) এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। গতকাল সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ সভা হয়। প্রতিবাদ সভা শেষে সোনারগাঁও হোটেলের পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে সংহতি জানাতে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বক্তাদের অনেকেই ছায়ানট ভবন ও উদীচী কার্যালয়ে হামলারও প্রতিবাদ জানান।
প্রতিবাদ সভার এক পর্যায়ে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সংহতি প্রকাশের জন্য মঞ্চে ডাকেন সভার সঞ্চালক ও সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। এ সময় একে একে মঞ্চে ওঠেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও জিপিএইচ ইস্পাতের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি কামরান টি রহমান, সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ। পরে মঞ্চে থাকা এসব ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন আলমগীর কবির, আনোয়ার উল আলম চৌধুরী ও কামরান টি রহমান।
বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) সাবেক সভাপতি আলমগীর কবীর বলেন, ‘আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি আজকের এই প্রতিবাদ সভায়। সরকারের কাছে প্রশ্ন হলো, আপনারা কি আমাদের দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে চান? ব্যবসা–বাণিজ্যের ক্ষতি করতে চাচ্ছেন? অথবা সংবাদমাধ্যমের ব্যত্যয় ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছেন? আপনারা যদি এগুলো করতে না চান, তাহলে আপনাদের তা প্রমাণ করতে হবে।’
মেট্রো চেম্বারের (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, ‘যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার নিন্দা জানাতে ও সংহতি প্রকাশ করার জন্য আজকে আমরা এখানে এসেছি।’
(KS)
