ইরানের সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো বৈরী পদক্ষেপ বা ভুল হিসাব-নিকাশের তাৎক্ষণিক ও বাস্তবসম্মত জবাব দেওয়া হবে। একইসঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার কাছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি-নিয়া বৃহস্পতিবার রাতে একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বলেন, শত্রুর যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপের বিপরীতে ইরান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আকরামি-নিয়া বলেন, ১৯৭০-এর দশক থেকে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে তিনটি মূল কৌশল অনুসরণ করে আসছে: কমিউনিজম বা সাম্যবাদ প্রতিরোধ, পশ্চিমে জ্বালানি তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা ও ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি উল্লেখ করেন, ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর মার্কিন আঞ্চলিক নীতিতে আংশিক পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তীতে তা ২০২৬ সালের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে বিধিবদ্ধ করা হয়। আকরামি-নিয়ার মতে, যদিও এই দলিলে আমেরিকার মহাদেশীয় উপস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, তবুও এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রেখেছে।
ইরানি এই সামরিক মুখপাত্র বলেন, ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি এসব পদক্ষেপকে একটি বৃহত্তর ‘হাইব্রিড ওয়ার’ বা বহুমুখী যুদ্ধের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
সুত্রঃ ইনকিলাব
