আসামে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বাংলাভাষী মুসলমানদের লক্ষ্য করে অত্যন্ত তীব্র ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (স্পেশাল রিভিশন বা এসআর) প্রক্রিয়ার মধ্যেই তিনি দলীয় কর্মীদের প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছেন এ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যত বেশি সম্ভব অভিযোগ দায়ের করতে এবং তাদের চাপের মধ্যে রাখতে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জানুয়ারি ডিব্রুগড় (বা ডিগবই) এলাকায় এক সরকারি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিজেপি কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭-এ অভিযোগ করছে। তিনি বলেন, এটি কোনো গোপন বিষয় নয় বরং দলের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান।
তার মতে, যদি এ অভিযোগগুলো না করা হয় তাহলে মনে হবে আসামে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী নেই। তিনি এই প্রক্রিয়াকে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন, এ সম্প্রদায়কে চাপে না রাখলে তারা জমি, সম্পত্তি ও রাজনৈতিক অধিকার দখল করে নেবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, ‘যদি আমরা মিঁয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করি, তাহলে মনে হবে আসামে অবৈধ বিদেশি বলে কিছু নেই। আমি দলের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা যত বেশি সম্ভব অভিযোগ করে শুধু মিঁয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে। এদের চাপে রাখতে হবে, না হলে তারা আমাদের মাথার ওপর চড়ে বসবে। এটা অসমীয়াদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন কীভাবে এই ‘চাপ’ সৃষ্টি করা যায়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, গুয়াহাটিতে অনেক মুসলমান অটোচালক রয়েছে তাদের অটোতে উঠে ভাড়া কম দিতে হবে (যেমন, ৫ টাকার জায়গায় ৪ টাকা), প্রয়োজনে উৎপাত করলে হাত তোলা যাবে। যেসব ক্ষেত্রে তারা কাজের সুযোগ নিয়েছে, সেখানে আক্রমণাত্মক হতে হবে। তিনি কন্ট্রাক্টরদেরও নির্দেশ দিয়েছেন মিঁয়াদের বাদ দিয়ে স্থানীয় অসমীয়াদের সুযোগ দেওয়ার জন্য। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান সব ক্ষেত্রেই এ ‘সম্মিলিত আক্রমণ’-এর কথা বলেন তিনি।
