যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যে আলোচনার জন্য তুরস্কে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আনকারার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন তিনি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগান একটি ভিডিও কনফারেন্স প্রস্তাব করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অংশ নেবেন। এমন ধরনের সরাসরি কূটনীতি ট্রাম্পের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু সংযমী ইরানি কূটনীতিকদের কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। গত এক দশকে দুই দেশের মধ্যে কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের কূটনীতিকরা ইরানকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংযম দেখানো ছাড়া দেশটি বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে পারবে না।
ইরানের অভ্যন্তরে জনগণের মধ্যে দুই ভিন্ন অভিমত দেখা যাচ্ছে। একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, আর অন্য অংশ বিদ্রোহী পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। ইরানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মীর হোসেইন মুসাভি বলেন, পর্যাপ্ত হয়েছে, খেলা শেষ। তিনি সংবিধানভিত্তিক গণভোটের আহ্বান জানিয়েছেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ইরানের ওপর হামলা করা ভুল। যুদ্ধ শুরু করা ভুল। ইরান পারমাণবিক ফাইল নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ইরানকে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বিশ্বাস তৈরি করতে হবে এবং কৌশলগত অবস্থান বোঝাতে হবে।
ফিদান বৃহস্পতিবার টম ব্যারাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যিনি আনকারায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি। তুরস্ক ও ইরানের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি বড় পরীক্ষার মতো, যেখানে কোনো সামরিক সংঘাত পুরো অঞ্চলকে অস্থির করতে পারে।
