
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক- এই দুই অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তির বিরোধ এখন প্রকাশ্য। অথচ কয়েকদিন আগেও তাদের ‘বন্ধুত্ব’ ছিল সবচেয়ে আলোচনার বিষয়। কিছু দিন ধরেই তাদের মধ্যে বাড়তে থাকা দূরত্বের গুঞ্জন মুহূর্তেই ‘বাগযুদ্ধ’ হিসেবে সবার সামনে আবির্ভূত হয়েছে।
ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে ইলন মাস্কের সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হয়েছে। রোববার (৮ জুন) বিবিসির অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে শনিবার এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, হ্যাঁ, আমি তা–ই ধরেই নিচ্ছি। সেইসঙ্গে মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে চান কিনা- প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ‘না’ বলে দেন।
উল্লেখ্য যে, টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও মাস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারে কোটি ডলার অনুদান দিয়েছিলেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সম্প্রতি ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কর ও ব্যয় সংক্রান্ত বিলের তীব্র সমালোচনা করেন মাস্ক। ওভাল অফিসে বসে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘দেখুন, ইলনের সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক ছিল। জানি না সেটা আর থাকবে কি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। কারণ এখানে উপস্থিত অন্য যে কারও তুলনায় ইলনই এ বিলের খুঁটিনাটি সবচেয়ে ভালো জানতেন। অথচ হঠাৎ করেই তিনি এতে আপত্তি তুলছেন।’
সম্প্রতি ট্রাম্পের কর ও ব্যয় বিলকে ‘জঘন্য’ বলে কটাক্ষ করেন মাস্ক। তাঁর ওই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওভাল অফিসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, দেখুন, ইলনের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। জানি না সেটা আর থাকবে কি না।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইলন মাস্ক তাঁর বক্তব্যকে সরাসরি মিথ্যা বলে দাবি করেন। ট্রাম্পের উক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একাধিক পোস্টে মাস্ক ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে আক্রমণ করেন। এমনকি প্রমাণ না দেখিয়েই তিনি অভিযোগ তোলেন, ট্রাম্প ‘এপস্টেইন ফাইল’-এ যুক্ত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও অভিযোগ করেন, ইলন মাস্ক প্রেসিডেন্টের অফিসের মর্যাদাকে অপমান করেছেন।
সুত্রঃ বিবিসি
