
গত বছরের জুলাই- আগষ্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। আজ সোমবার (১২ মে) চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। শেখ হাসিনা সহ এই তিনজনের বিরুদ্ধে জুলাই- আগষ্টের গণহত্যার ঘটনায় নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা।
এই বিষয়ে শুক্রবার (৯ মে) এক ফেসবুক পোস্টে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সোমবার তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সহ বাকিদের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হবে। নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রথমে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর চিফ প্রসিকিউটর সেই তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেন এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আকারে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন।
শুক্রবার তাজুল ইসলাম পোস্টে লেখেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার তদন্ত রিপোর্ট সোমবার চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দাখিল করবে বলে আশা করছি। তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হওয়ার পর ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিলের মাধ্যমে হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ভারতে পালিয়ে যান। এর পরপরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। নতুনভাবে গঠিত ট্রাইব্যুনালের অধীনে মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথম মামলাটি হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। একই মামলায় পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকেও, যাদের বিরুদ্ধে গনহত্যার সঙ্গে জড়িতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
