
ইউক্রেনের গোপন ওই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মাকড়সার জাল’। মোট ১১৭টি ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার ওলেনিয়া, বেলায়া এবং মস্কোর পূর্বে অবস্থিত ইভানোভো ও দিয়াগিলেভো বিমানঘাঁটির ক্ষেপণাস্ত্রবাহী বিমানগুলিতে আঘাত হেনেছিল ইউক্রেনর ড্রোন। এই ড্রোন হামলায় ধ্বংস হয়েছে ৪০টিরও বেশি রুশ সামরিক বিমান।
অপারেশন স্পাইডার ওয়েব বা মাকরসার জাল “সাঙ্কেতিক” নাম এটাই। অভিযানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল আজ থেকে ঠিক এক বছর ছ’মাস আগে। তার পর থেকে দেড় বছর ধরে চলেছিল প্রস্তুতি। কিন্তু কোন কৌশলে রবিবার দুপুরের ড্রোন হামলায় ৪০টিরও বেশি রুশ সামরিক বিমান ধ্বংস করল ইউক্রেন? এ বার সেই রণকৌশল ফাঁস করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি। প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, এসবিইউ সিকিউরিটি সার্ভিস পরিচালিত ‘স্পাইডারস ওয়েব’ অপারেশনের আওতায় এই হামলায় ১১৭টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রবিবার (১ জুন) রাশিয়ার ইরকুটস্ক অঞ্চলের স্রেডনি জনবসতির কাছে অবস্থিত ওলেনিয়া বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে বড়সড় ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। নিশানায় ছিল আরও তিনটি বিমানঘাঁটি। বেছে বেছে সামরিক বিমানগুলি লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালানো হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ৪০টিরও বেশি রুশ সামরিক বিমান। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ)-এর দাবি, ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিমানগুলির মধ্যে ছিল টিইউ-৯৫ এবং টিইউ-২২। দু’টিই যুদ্ধে ব্যবহৃত বোমারু বিমান, যা সাধারণত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। হামলার পর পরই ইউক্রেনের সেনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট। এই অভিযানকে ‘অসাধারণ’ বলেও অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তাঁর দাবি, এই হামলায় রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে – যা সম্পূর্ণ ‘ন্যায্য’ এবং ‘রাশিয়ার প্রাপ্য’ বলেও তিনি যোগ করেন।
ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে এই ড্রোন হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তবে ড্রোনগুলো ইউক্রেন থেকে ছোড়া হয়নি। বরং নিশানায় থাকা রুশ সেনাঘাঁটির আশপাশের এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনের এই ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে কিয়েভের দাবি সত্য হয়ে থাকলে তিন বছর আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার ভেতরে এটাই ইউক্রেনের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ড্রোন হামলা। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত শান্তি আলোচনার আগমুহূর্তে এ হামলাকে উসকানি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মুরমানস্ক, ইরকুৎস্ক, ইভানোভো, রিয়াজান এবং আমুর অঞ্চলে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে মুরমানস্ক ও ইরকুৎস্কে ড্রোন হামলায় একাধিক সামরিক বিমান আগুনে পুড়ে গেছে। এসব ড্রোন হামলা মূলত বিমানঘাঁটির কাছাকাছি অঞ্চল থেকে চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ড দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে রাশিয়া। অভিযানে জড়িত কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।
অন্য দিকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে ইউক্রেনের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘রণক্ষেত্র (ফ্রন্টলাইন) থেকে অনেক দূরে অবস্থিত শত্রুঘাঁটিতে হামলার লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনী।’ নিশানায় থাকা সাইবেরিয়ার বেলায়া বিমানঘাঁটিতে আগুন ধরেছে বলেও জানান তিনি।
