
জুলাই যোদ্ধাদের নানাবিধ সংকটে তিনদিন ধরে বন্ধ জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইও)। কখনো নিজেদের দ্বন্দ্বে মারামারি, কখনো স্টাফদের ওপর হামলা, কখনো পরিচালককে অবরুদ্ধ করে রাখাসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা হাসপাতালটির নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
সর্বশেষ গেল বুধবার (২৮ মে) কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে চিকিৎসক ও স্টাফদের কর্মবিরতি কর্মসূচিতে সৃষ্ট হট্টগোলের মধ্যেই হামলা করে জুলাই যোদ্ধারা। এতে অন্তত ১৫জন চিকিৎসক ও স্টাফ আহত হন। সেনাবাহিনী এসে চিকিৎসক-স্টাফদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও বন্ধ রয়েছে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম। দৈনিক সেবাবঞ্চিত হচ্ছে ৫ হাজার নাগরিক।
চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের হাতাহাতি ছবি: সংগৃহীত
গত তিনদিনের নানা প্রচেষ্টায় চালু হয়নি দেশের একমাত্র সরকারি এ চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালের কার্যক্রম। চিকিৎসক-স্টাফরা নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতালে আসছেন না। জুলাই যোদ্ধারা খুঁজছেন ডাক্তার ও স্টাফদের বাসার ঠিকানা। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বাসায় গিয়েও হামলা করতে চান তারা।
‘হাসপাতালে যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটা স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত দুদিন তো হাসপাতালে কোনো সেবা চালু ছিল না। এটা কীভাবে চালু করা যায়, চেষ্টা হচ্ছে।— স্বাস্থ্য সেবা সচিব মো. সাইদুর রহমান
এদিকে, বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা, সচিব, হাসপাতাল প্রতিনিধি ও ছাত্রপ্রতিনিধি নিয়ে সমস্যা সমাধানে সভা করলেও সিদ্ধান্তে উপনীতি হওয়া যায়নি। ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জুলাই ফাউন্ডেশনের সিইও’র অনুরোধে তিনজনকে (২৩ মে) শুক্রবার চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। একদিন পর রোববার (২৫ মে) জুলাই ফাউন্ডেশনের সিইও ও হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সভা চলাকালীন ওই তিনজনসহ মোট চারজন গ্রিন টনিক পান করেন। যদিও বিষপানে আত্মহত্যা চেষ্টা বলে ছড়িয়ে যায় সবদিকে। তাদের দ্রুত রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দিনশেষে হাসপাতাল থেকে তাদের অবস্থা স্বাভাবিক ও সুস্থ বলে জানানো হয়।
