বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা–খাওয়ার খরচ বহনের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে নির্বাচনব্যবস্থায় কর্তৃত্ববাদী চর্চা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ঠুনকো যুক্তিতে তাদের থাকা–খাওয়ার ব্যয় বহনের নির্বাচন কমিশনের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই সিদ্ধান্ত যে বৈষম্যমূলক—তা অনুধাবনে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা বিস্ময়কর। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যয় বহন করা হলে দেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা কেন প্রযোজ্য হবে না—সে প্রশ্নের জবাব ইসিকে দিতে হবে।
তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে একদিকে সুবিধাপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকরা ‘ভাড়াটে’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় থেকে তারা কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন মূল্যায়ন করতে পারবেন—তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের প্রতিও প্রশ্ন তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, তারা কোন যুক্তিতে ইসি বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চান—তা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। নৈতিকতার মানদণ্ড ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ করে তারা আদৌ বস্তুনিষ্ঠ, নির্মোহ ও পক্ষপাতহীন মূল্যায়ন করতে পারবেন কি না—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থেকে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের নির্বাচন কিংবা তার আগের নির্বাচনগুলোতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের প্রয়োজন হয়নি। অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন কেন দেখা দিল—সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পতিত সরকারের প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছিল—বর্তমান নির্বাচন কমিশন তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হবে না বলেই টিআইবি আশা করে।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে জনমনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে ব্যাপক প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, তা বিতর্কিত করার পথ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সরে আসার আহবান জানান।
