
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) ও মা মোসা. হাসি বেগম (৬০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আদালতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সাড়ে ৫টার দিকে র্যাব-১০ এর একটি দল ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিংয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ফয়সাল করিমের বাবা ও মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের চার সন্তানের মধ্যে আসামি শুটার ফয়সাল তৃতীয়। ফয়সাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তার বোন জেসমিন আক্তারের বাসায় প্রায় যাতায়াত করত। ঘটনার দিন রাতে ফয়সাল জেসমিনের বাসায় একটি ব্যাগ নিয়ে উঠে। পরে ওই বাসা থেকে কালো ব্যাগটি বাহিরে ফেলে দেয়। আবার আসামি তার ভাগনে জামিলকে দিয়ে ব্যাগটি নিয়ে আসে। এছাড়াও ফয়সাল তার নিজ ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোনের একটি ওই বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেয় এবং অন্যটি তার মা মোসা. হাসি বেগমকে দেয়।
তিনি আরও বলেন, বোনের বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে ফয়সাল। এক পর্যায়ে সেখানে তার অবস্থান নিরাপদ মনে না হওয়ায় আগারগাঁও থেকে মিরপুরের শাহজাদপুরস্থ আসামি মো. হুমায়ুন কবিরের ভাতিজা আরিফের বাসায় যায়। পরে ফয়সালকে তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির একটি সিএনজি ভাড়া করে দেয় এবং সঙ্গে কিছু টাকাও দেয়। পরবর্তীতে ফয়সালের বাবা-মা তাদের ছেলে হাসান মাহমুদের কেরানীগঞ্জের বাসায় যায়। সেখানে যাওয়ার আগে তারা জুরাইন থেকে দুইটি মোবাইল ও সিম কিনে নিয়ে ব্যবহার করে।
এর আগে ফয়সালের স্ত্রী, বান্ধবী, শ্যালক, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. হান্নান ও সহযোগী কবীর গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও ময়মনসিংহ সীমান্ত থেকে তাকে পাচারে সহায়তার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়।
হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গত রোববার (১৪ ডিসেম্বর) পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত, দুষ্কর্মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে রিকশায় করে ফিরছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদি। রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল থেকে খুব কাছ থেকে তার মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গুলি মাথার ডান পাশ দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর মোটরসাইকেলটি দ্রুত গতিতে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
(KS)
