
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) আলোচনা অনুষ্ঠানে হট্টগোলের মধ্যে ‘মব হামলার’ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জানিয়েছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (একাংশ)।
এক বিবৃতিতে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকারের সীমাহীন নীরবতা এবং পরোক্ষ মদদে দেশজুড়ে মব সন্ত্রাসের মাত্রা দিনদিন বেড়েই চলেছে। মব সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো যারা নিগৃহীত হলেন তাদেরকেই তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করে মব সন্ত্রাসীদের আরও বেশি অপরাধ করতে উৎসাহ দিল পুলিশ ও প্রশাসন।
“৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তি সারা দেশে মব সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধীরা সচেতনভাবেই একাত্তর আর চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর ষড়যন্ত্র করছে।”
“নিজেদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করে একদল সুবিধাবাদী মানুষ, প্রকৃতপক্ষে চব্বিশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষায় দেশ পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে। এদেরকে প্রতিরোধ করতে না পারলে যে বৈষম্যহীন, সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে তা পূরণ হবে না।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকারের এমন ভূমিকা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধী অপশক্তিকে আরও উৎসাহিত করছে।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সাংবাদিকদের উপর হামলায় জড়িত সবাইকে দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবিও জানায় উদীচী।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মঞ্চ ৭১’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে হট্টগোলের মধ্যে ‘মব হামলার’ শিকার হন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ আরো অনেকে।
এ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় করছেন গণফোরামের নেতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (বীর প্রতীক) ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। বৃহস্পতিবারের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল গণফোরামের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেনের। তবে তিনি আসার আগেই সেখানে একদল ব্যক্তি হট্টগোল শুরু করে। তাদের হামলায় আহত হন অনেকে।
সেখানে ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয়ে আল আমিন রাসেলের নেতৃত্বে কয়েকজন গিয়ে উপস্থিত লোকজনদের ঘেরাও করেন।
অনুষ্ঠানে আসা মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমি এখানে প্রোগ্রামে এসেছি। দল মতের হিসাবে নয়, এখানে সব মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকা হয়েছে; তাই এসেছি।
“আমরা প্রোগ্রাম শুরু করেছিলাম। লতিফ সিদ্দিকী সাহেব এসেছেন। কামাল হোসেন সাহেব আসেননি। ২০/২৫ জন ছেলে এসে হট্টগোল করে। আমাদের ঘিরে ফেলে।”
লতিফ সিদ্দিকীকে ঘিরে কয়েকজন তরুণ লাফাতে লাফাতে স্লোগান দেয়, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’- এরকম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুষ্ঠানস্থলে কেশব রঞ্জন সরকার নামের একজন মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। আর রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মারধরের শিকার হন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহিল কাইয়ূম।
দুপুরের ওই ঘটনার পর ডিআরইউ থেকে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ও সাংবাদিক মনজুরুল ইসলাম পান্নাসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
পরে রাত সাড়ে ১০টার পরে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ।
শুক্রবার লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে। তবে আইনজীবীর বারবার অনুরোধের পরও জামিন আবেদন করেননি লতিফ সিদ্দিকী।
