
‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে ভারত সামরিক অভিযান চালানোর পর দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। নয়াদিল্লি এসব স্থানকে ‘সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জবাবে ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা ভারতীয় সামরিক অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
পাকিস্তানে অন্তত ২৬ জন এবং ভারত-শাসিত কাশ্মীরে ১০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ব নেতারা কী বলছেন, দেখে নেওয়া যাক—
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটা দুঃখজনক। আমি মাত্রই এ ঘটনার কথা শুনলাম। অনুমান করা হচ্ছিল কিছু একটা ঘটবে। তারা অনেক বছর ধরে লড়াই করছে। আমি আশা করি, এটা খুব তাড়াতাড়ি শেষ হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতি আমি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রেসিডেন্টের আগের মন্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলছি, আশা করি দ্রুত এই উত্তেজনা শেষ হবে এবং আমরা উভয় দেশের নেতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য যোগাযোগ চালিয়ে যাব।’
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো বলেছেন, ‘আমরা বুঝতে পারি ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে। তবে আমরা ভারত ও পাকিস্তান উভয়কে সংযম দেখাতে বলছি, যেন সংঘাত না বাড়ে এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা পায়।’
জাপানের মন্ত্রিপরিষদ মুখপাত্র ইয়োশিমাসা হায়াশি, ‘কাশ্মীরে ২২ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলার কড়া নিন্দা জানাই। তবে বর্তমানে যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা যদি প্রতিশোধের চক্রে পরিণত হয়, তবে পুরো অঞ্চল জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা উভয় পক্ষকে সংযম দেখাতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন সুলতান আল নাহিয়ান বলেছেন, ‘উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা হ্রাস ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কূটনীতি ও সংলাপই শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির পথ।’
বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, তারা দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে দিল্লি-ইসলামাবাদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
