
মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২০০০ ছাড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,৪০০ জনের বেশি এবং এখনোও নিখোঁজ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। নিহতদের স্মরণে ৭ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা।
সোমবার (৩১শে মার্চ) মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুক্রবারের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালি ভূমিকম্পে দুই হাজারের বেশী মানুষ নিহত হয়েছেন।
একজন মুখপাত্র জানান, তিন হাজারের বেশী মানুষ আহত হয়েছেন এবং এখনও ২৭০ জন এখনোর মতো নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন ভুমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী এবং ভূতাত্ত্বিক জরিপের অনুমান, নিহতের এই সংখ্যা শেষ পর্যন্ত দশ হাজারেরও বেশি হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, কমপক্ষে তিনটি হাসপাতাল ধ্বংস হয়েছে। ২২টি হাসপাতাল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হতাহতের পরিমাণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। সংস্থাটি এর আগে জরুরি সহায়তার জন্য আট মিলিয়ন ডলার সাহায্যের জন্য জরুরি আবেদন জানায়।
ভুমিকম্পে নিহতদের স্মরণে মিয়ানমারে এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অংশজুড়ে বাড়িঘর, ধর্মীয় স্থাপনা, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হোটেল, হাসপাতাল সবই ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা কয়েকদিন ধরে ধসে পড়া ভবন থেকে মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি মান্দালয়। মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম ওই শহরটিতে ১৭ লাখের বেশি মানুষ বাস করে। সেখানে টানা তৃতীয় রাতের মতো দুর্যোগ কবলিত মানুষ রাস্তায় অবস্থান করেন। শহরটির এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটিও খালি করা হয়েছে। শত শত রোগীকে বাইরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
