
টিকটকে কয়েক দিন পরপরই অদ্ভুত কিন্তু মজার নানা রকমের ট্রেন্ড দেখা যায়। আর এসব ট্রেন্ডে গা ভাসান লাখ লাখ ব্যবহারকারী। এখন যেমন ট্রেন্ডে আছে কমলালেবু পরীক্ষা। নেটিজেনরা যার নাম দিয়েছেন ‘অরেঞ্জ পিল থিওরি’। গত বছর থেকেই সম্পর্ক যাচাইয়ের নতুন এই পদ্ধতি নিয়ে টিকটকে চর্চা হচ্ছে। আর তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন তরুণ-তরুণীরা। বলা হচ্ছে, ভালোবাসা যাচাই করতে এটি ‘খুবই কার্যকর’ কৌশল। আসলেই কি তা–ই?
অরেঞ্জ পিল থিওরি কী
এই ট্রেন্ডে নারীরা (পুরুষও হতে পারেন) তাঁদের সঙ্গীকে একটি কমলালেবু এনে দিতে বলেন। কখনো কখনো কমলালেবু হাতে ধরিয়ে ছিলে দিতে বলেন। আর এখানেই রয়েছে টুইস্ট। সেই কমলা যদি খোসা ছাড়ানো অবস্থায় আসে, তাহলেই তাঁর সঙ্গীকে ভালোবাসার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলা যায়। আর যদি কমলা খোসাসহ আসে, তাহলে ‘কুছ গড়বড় হ্যায়!’ অনেকে বলছেন, এই ছোট্ট অনুরোধের মাধ্যমে তাঁরা দেখতে চাইছেন সঙ্গী/সঙ্গিনী তাঁদের প্রতি কতটা যত্নবান। কেউ কেউ আবার এই থিওরিকে ভালোবাসার ভাষার সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেখানে যত্নের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশটাই মুখ্য। যেমন এই কমলার খোসা ছাড়ানো। একটি ভিডিওতে দেখা গেল, এক তরুণী তাঁর সঙ্গীকে বলছেন, ‘আমার কমলা খেতে ইচ্ছা করছে।’ তখন তাঁরা বেডরুমে বসে ছিলেন। পুরুষ সঙ্গী এটা শোনার পর উঠে গিয়ে তাঁকে একটি কমলা খোসা ছাড়িয়ে এনে দিলেন। আর সেটা দেখেই নারীটি তাঁর সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘তুমি পাস।’
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে একমনে টিভি দেখছেন এক তরুণ। এমন সময় তরুণীটি সঙ্গীর কাছে এসে বসে তাঁর হাতে একটি কমলা ধরিয়ে দিয়েছেন। এ সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার কমলাটি খেতে ইচ্ছা করছে।’ শুনে ছেলেটি টিভি দেখতে দেখতেই কমলার খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো মেয়েটির হাতে দিতে থাকেন। এরপর মেয়েটিকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি পাস করেছ, তবে শতভাগ নম্বর পাওনি।’ কারণ হিসেবে ওই তরুণীর ব্যাখ্যা, কমলার খোসা ছাড়িয়ে দিলেও একবারও তিনি মেয়েটির দিকে তাকাননি। এমনকি খোসা ছাড়ানোর ফাঁকে তাঁদের মধ্যে বিশেষ কোনো কথাও হয়নি। ছেলেটি শুধু তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন, যত্নের ঘাটতি ছিল।
নিছক মজা হিসেবেই শুরু হয়েছিল ট্রেন্ডটি। তবে সম্পর্কের এই ‘অরেঞ্জ পিল থিওরি’ প্রথম দেখায় হাস্যকর মনে হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্বারা কীভাবে তরুণ-তরুণীর সম্পর্কে এটি এক অদৃশ্য চাপ তৈরি করছে, তা বোঝা যায়। কেউ কেউ এই কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে আনার ছোট্ট ঘটনাকেই করে তুলছেন ভালোবাসার মানদণ্ড।
