
বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয়ে আবারও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন সৌদি আরব। গত ২০২২ সালের পর থেকে ব্যাংকগুলোর ভুল রিপোর্টিং এর কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশগুলো থেকে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় দেখানো হচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় দেশভিত্তিক আলাদাভাবে আয়ের হিসাব করায় গত মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই নতুন চিত্র উঠে আসে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল (২০২৫) মাসে দেশে ২৭৫ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার। যা মোট রেমিট্যান্সের ১৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ৩৭ কোটি ২১ লাখ ডলার, আর তৃতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৩৩ কোটি ডলার। এই তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য (২৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার) এবং মালয়েশিয়া (২১ কোটি ৯ লাখ ডলার)। শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় আরও রয়েছে কুয়েত, ইতালি, ওমান, সিঙ্গাপুর ও কাতার।
উল্লেখ্য যে, দেশের ইতিহাসে একক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে ২০২৪ সালের মার্চে, যার পরিমান প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার। ওই সময় শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র (৫৪ কোটি ৬১ লাখ ডলার), দ্বিতীয় সংযুক্ত আরব আমিরাত (৫০ কোটি ৮৩ লাখ) এবং তৃতীয় সৌদি আরব (৪৪ কোটি ৮৪ লাখ)। মার্চ পর্যন্ত হিসাবেও সৌদি আরব শীর্ষে ছিল না; তবে এপ্রিল থেকে তারা আবার রেমিট্যান্সে শীর্ষ অবস্থানে ফিরে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রতিটি মাসেই সৌদি আরব শীর্ষ রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশ ছিল। কিন্তু ওই বছরের জুলাই মাসে হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রকে শীর্ষে এবং সৌদি আরবকে দ্বিতীয় অবস্থানে দেখানো হয়। তৃতীয় স্থানে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। যদিও পুরো অর্থবছর শেষে সৌদি আরব পুনরায় শীর্ষ স্থানে উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্র ছিল দ্বিতীয় এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তৃতীয় অবস্থানে।
রেমিট্যান্স খাতের বিশ্লেষকরা মনে করেন সঠিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে রেমিট্যান্স খাতে স্বচ্ছতা ও পরিকল্পনায় বাস্তবতা ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগক অবশ্যই ইতিবাচক। এই ধরনের শুদ্ধি প্রক্রিয়া প্রবাসী আয়ের প্রবাহ, উৎস ও ব্যবস্থাপনা বুঝতে নীতিনির্ধারকদের আরও সহায়তা করবে বলেও তারা মনে করেন।
